খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাদুড়গাছা গ্রামের সন্তান মৌ মণ্ডল। গুটুদিয়া ইউনিয়নের অজোপাড়া গাঁয়ে বেড়ে উঠেছেন নৃত্য শিল্পী হিসেবে। লুকায়িত প্রতিভা, গ্রামের মন্দির প্রাঙ্গনে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক রাতে নেচে মন মাতিয়েছেন দর্শকদের। মুখ উজ্জল করেছেন বাবা-মায়ের। শত দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। তাকে নিয়ে গর্বিত স্বজনরা। আর এ গৌরবের পেছনে কারিগরী প্রতিষ্ঠান গীতা ফাউন্ডেশন’।
২৮ মার্চ রাতে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘ঐ যে দেখা যায় হিজলতলীর গাঁয়ে’ সঙ্গীতের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। মন্দির প্রাঙ্গনে গীতা ফাউন্ডেশন সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। লুকায়িত প্রতিভাদের জন্য এ আয়োজন। এ ফাউন্ডেশনের জনক অ্যাডভোকেট প্রসেনজিৎ রায়। দীর্ঘদিন ছিলেন বিলেতে। বটিয়াঘাটা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের সন্তান। বাদুড়গাছায় এ ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ এ অনুষ্ঠানের দু’সপ্তাহ আগে।
কোন অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানে নৃত্যাভাসের সুযোগ পাননি। প্রশিক্ষকের কাছে তালিমও পাননি। আধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে ভিডিও দেখেই নাচ শিখেছেন। এর আগে গ্রামের দুর্গোৎসব উপলক্ষে এবং কুলোটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচের সুযোগ পাননি। গণমাধ্যমে প্রচার পাননি। জায়গা হয়নি পত্রিকার রঙিন পাতায়।
গ্রামের কৃষক পরিবারের এ সন্তান ১৯৯৯ সালের ৩ আগস্টে মাতৃকোলে আসেন। পিতা অমলেন্দু মণ্ডল আর মা লিপিকা মণ্ডল। দু’জনই মাটিতে ফসল ফলান। কখনও আমন, কখনও বোরো, শীত ও বর্ষার নানান সবজি আবাদ করেন। বাড়ির আঙিনায় আছে মিষ্টি পানির মাছের খামার। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কৃষি আবাদে ব্যস্ত মণ্ডল দম্পতি। অভাব-অনাটন-জরা-শোক নেই পরিবারে। দেনা নেই, নেই সমিতির ঋণের বোঝা। মাটির ওপর ফলানো ফসল এ পরিবারের আয়ের উৎস। তাদের নৃত্যশিল্পী সন্তান সরকারি বিএল কলেজ মার্কেটিং (সম্মান) এর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আগামীতে নৃত্যশিল্পী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে চান।
খুলনা গেজেট/জেএম